ইসলামে নারীদের মযাদা

Ruksana akhter 2 weeks ago Views:17

জাহান্নামে শাস্তি


কেমন হবে জাহান্নামের শাস্তি

কেমন হবে জাহান্নামের শাস্তি
 
জাহান্নাম আল কোরআন ও আল হাদিসে ব্যবহূত একটি আরবি শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হলো: অগ্নিকুণ্ড, আগুনের গর্ত, শাস্তির স্থান, অতল গহব্বর ইত্যাদি। আল কোরআন ও আল হাদিসে একে আন নার বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। পারিভাষিকভাবে জাহান্নাম হলো, এমন আগুনের নাম যেখানে আল্লাহ তায়ালা কাফির ও পাপী তথা মন্দ লোকদেরকে তাদের কৃতকর্মের ফলাফল হিসেবে নিরন্তর শাস্তি প্রদান করবেন। জাহান্নামের অধিকাংশ শাস্তিই আগুনের বা আগুন কেন্দ্রীক তাই জাহান্নামকে আন নার নামে নামকরণ করা হয়েছে। জাহান্নাম মানেই হলো শাস্তি আর শাস্তি। যেখানে অনবরত ও অফুরন্ত শাস্তি চলতেই থাকবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: যারা তাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহে অবিশ্বাস করেছে তাদের জন্য রয়েছে অতিশয় যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরা জাছিয়া, আয়াত ১১)
জাহান্নামে সাতটি দরজা রয়েছে। নিজ নিজ পাপের পরিধি বা পরিমাণ অনুসারে জাহান্নামীরা নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: নিশ্চয়ই জাহান্নাম তাদের সকলের নির্ধারিত স্থান। তার সাতটি দরজা রয়েছে। প্রত্যেকটি দরজার জন্য তাদের মধ্য থেকে পৃথক পৃথক দল রয়েছে। (সূরা হিজর, আয়াত ৪৩, ৪৪) জাহান্নামের সর্ব নিম্নস্তরে সর্বাধিক কঠিন আযাব হবে আর উপরের স্তরে হালকা আযাব হবে। আব্বাস ইবনে আবদুল মোত্তালিব (রা) রাসূল (স) কে বলেন: আবু তালিবকে তার কোনো কাজ উপকার দিবে কী? তিনি তো আপনাকে রক্ষণাবেক্ষণ করতেন, আপনার জন্য অন্যের উপর রাগান্বিত হতেন। রাসূল (স) বললেন: হ্যাঁ। তিনি জাহান্নামের উপরের স্তরে থাকবেন। যদি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ না থাকতো তাহলে তিনি জাহান্নামের সর্ব নিম্নস্তরে থাকতেন। জাহান্নামের সাতটি স্তরের নাম হলো: জাহান্নাম, সাইর, হুতামাহ, লাযা, সাকার, জাহিম এবং হাবিয়াহ। জাহান্নামীদেরকে দূর থেকে আসতে দেখে জাহান্নাম রাগে ও ক্রোধে এমন আওয়াজ করবে যে তা শুনে কাফের ও পাপীরা অজ্ঞান হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যখন জাহান্নাম তাদেরকে দূর থেকে দেখতে পাবে তখন তারা জাহান্নামের গর্জন ও হুঙ্কার শুনতে পাবে। (সূরা ফুরকান, আয়াত ১২) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, যখন তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তখন তারা জাহান্নামের গর্জন শুনতে পাবে যেন সে উিক্ষপ্ত হচ্ছে। জাহান্নাম ক্রোধে ফেটে পড়ার উপক্রম হবে। (সূরা মুলুক, আয়াত ৭,৮) জাহান্নামের আগুনকে প্রজ্বলিত করার জন্য আল্লাহ তায়ালা এমন ফেরেশতা নির্ধারণ করে রেখেছেন যারা অত্যন্ত রুক্ষ, নির্দয় ও কঠোর স্বভাব সম্পন্ন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, তাতে নিয়োজিত থাকবে এমন ফেরেশতা যারা অত্যন্ত কঠোর ও রুক্ষ, তারা আল্লাহ যা আদেশ করেছেন কখনো তা লঙ্ঘন করেন না আর আদিষ্ট বিষয় করাই তাদের একমাত্র কাজ। (সূরা আততাহরীম, আয়াত ০৬) জাহান্নামের আযাব দেখামাত্রই কাফের ও পাপীদের চেহারা কালো হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যারা পাপসমূহ উপার্জন করেছে তাদের জন্য সমপরিমাণ অকল্যাণ রয়েছে। অপমান তাদেরকে আবৃত করে ফেলবে, আল্লাহর হাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করার মতো কেউ থাকবে না। যেনো তাদের চেহারাগুলোকে একটুকরো মেঘের গাঢ় অন্ধকার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এরাই জাহান্নামের অধিবাসী, আর তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। (সূরা ইউনুছ, আয়াত ২৭)
জাহান্নামীদের শরীরের চামড়া যখন পুড়ে যাবে তখন সাথে সাথে নতুন চামড়া লাগিয়ে দেওয়া হবে যেনো আযাবের ধারাবাহিকতায় কোনো বিরতি না ঘটে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে অচিরেই আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো, যখনই তাদের চামড়া জ্বলে যাবে তাদেরকে ভিন্ন চামড়া দিয়ে পরিবর্তন করে দিবো যাতে করে তারা পরিপূর্ণভাবে আযাব অনুভব করতে পারে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মহাপরাক্রমশালী এবং প্রজ্ঞাময়। (সূরা নিসা, আয়াত ৫৬) জাহান্নামের আযাবে অসহ্য হয়ে জাহান্নামীরা মৃত্যু কামনা করতে থাকবে কিন্তু তাদের আর কখনো মৃত্যু হবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যখন তাদেরকে জাহান্নামের অতি সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে তখন তারা মৃত্যুকে ডাকতে থাকবে, তাদেরকে বলা হবে আজকে তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকো না বরং অনেক মৃত্যুকে ডাকো। (সূরা ফুরকান, আয়াত ১৩, ১৪) জাহান্নামীদের উপর তাদের আযাবকে এক পলকের জন্যও হালকা করা হবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যারা কুফুরি করেছে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, তাদের জন্য মৃত্যুর সিদ্ধান্ত দেয়া হবে না, ফলে তারা মৃত্যুবরণ করতে পারবে না। আর তাদের শাস্তিকেও হালকা করা হবে না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। পৃথিবীতে জীবনভর বড় বড় নিয়ামত ভোগকারী যখন জাহান্নামের আযাবসমূহকে এক পলক দেখবে তখন সে পৃথিবীর সমস্ত নিয়ামতের কথা ভুলে যাবে। জাহান্নামের আগুনের প্রথম স্ফুলিঙ্গই জাহান্নামীদের শরীর থেকে মাংসকে হাড্ডি থেকে আলাদা করে দিবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, জাহান্নাম তাদের চেহারাগুলোকে দগ্ধ করে দিবে। তারা সেখানে বীভত্স আকার ধারণ করবে। (সূরা আলমুমিনুন, আয়াত ১০৪) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, কখনোই নয়, নিশ্চয়ই এটা হলো লেলিহান অগ্নি, যা চামড়াকে তুলে নিবে। (সূরা মায়ারিজ, আয়াত ১৫, ১৬) জাহান্নামের আগুনের একটি সাধারণ স্ফুলিঙ্গ অট্টালিকা সমান হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই এটা প্রাসাদ সমান অগ্নস্ফুিলিঙ্গ নিক্ষেপ করবে। (সূরা মুরসালাত, আয়াত ৩৩) জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়ে ঊনসত্তর গুণ বেশি গরম হবে আর তার প্রতি অংশেই গরমের প্রচণ্ডতা রয়েছে যেমন দুনিয়ার আগুনে রয়েছে।
জাহান্নামীদের জন্য চার প্রকার খাবার পরিবেশন করা হবে। এগুলো হলো যাক্কুম নামে দুর্গন্ধময় তিক্ত ও কাটাযুক্ত খাবার, দ্বরি নামে কাটা বিশিষ্ট বৃক্ষ, গিসলিন নামে শরীর থেকে নির্গত দুর্গন্ধময় পদার্থ এবং যাগুচ্ছা নামে বিষাক্ত কাটা বিশিষ্ট দুর্গন্ধময় খাবার। এছাড়া জাহান্নামীদের পাঁচ প্রকারের পানীয় দান করা হবে। এগুলো হলো মাউন হামিম বা মারাত্মক গরম পানি, মাউন চদিদ বা ক্ষতস্থান থেকে নির্গত পুঁজ ও রক্ত, মাউন কালমুহল বা তৈলাক্ত গরম পানীয়, গাচ্ছাক বা কাল দুর্গন্ধময় পানীয় এবং তিনাতুল খাবাল বা ঘাম।
জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া হবে কোনো বান্দার জন্য সবচেয়ে সেরা সফলতা। তাই আমাদেরকে সর্বদা পাপের কাজ ত্যাগ করা প্রয়োজন। পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস, রাসুল (স) এর দেখানো পদ্ধতিতে এবং ইখলাছের সাথে আমাদেরকে মৃত্যু পর্যন্ত ইবাদাত করে যেতে হবে। প্রতিদিন আল্লাহ তায়ালার কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য কান্নাকাটি করতে হবে। তাঁর কাছে মহা সুখের স্থান জান্নাত চাইতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে তৌফিক দান করুন ! আমিন !



Comment


Recent Post