আত্মকাহিনী

Ruksana akhter 2 weeks ago Views:18

কলমের কাহিনি


কলমের ইতিহাস ও আত্মকথা



আমি কলম।কে,কখন,কবে,কীভাবে আমাকে তৈরি করছে তা আমার নিজের জানা নেই।তবে কেন তৈরি করেছে তা মনে হয় সবার জানা আছে।
মানুষ জাতীর বিজ্ঞানীরা আমার সৃষ্টি নিয়ে অনেক তথ্য বের করেছে জানি না তা কতটুকু সত্য।
মানুষ নিজেও জানে না তার জন্ম কবে?,কখন?
শুধু পিতামাতা বা অন্যের কাছ থেকে শুনেই বিশ্বাস।
ঠিক আমার ক্ষেত্রেও তাই......
।।
আমার ইতিহাসঃ-মিশরিয়রা প্রথম পেপাইরাসে আমাকে ব্যবহার শুরু করে।তখন আমার নাম ছিল খাগের কলম।আমাকে তৈরী করা হত- খাগ বা নলখাগড়া, বাঁশ
ইত্যাদির একদিক সরু করে কেটে।
খাগের কলমের ব্যবহার শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দ থেকে।
তারপর আর আমার ইতিহাস থেমে থাকে নি।খ্রিস্টপূর্ব ১০০ অব্দের দিক থেকে ব্যবহার করা শুরু হয় কুইল বা খাগের কলম।কুইল কলম হচ্ছে- রাজহাঁস বা বড়সড় পাখির পালকের তৈরি কলম।এই কলমে পালকের ফাঁপা অংশ কালিদানি হিসেবে কাজ করত।
মধ্যযুগে পার্চমেন্ট বা চামড়ার কাগজের উপরে কুইল দিয়ে লেখা হত।কুইল কলমগুলোর ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ করা যায় অষ্টাদশ শতাব্দীতে। কুইল কলমের পর আসে নিবের কলম।নিব কলম গুলো সাধারণত কাঠের হাতলের সাথে একটি ধাতব নিব লাগিয়ে তৈরি করা হয়।নিব কলম অনেকটা ঝর্ণা কলমের মতই, তবে এই কলমে কোন কালি জমা রাখার উপযোগী কালিদানি নেই এবং লেখার সময়ে বারবার এটিকে কালিতে চুবিয়ে নিতে হয়।
ঝর্ণা কলমের তুলনায় এই কলমে সুবিধা হল এই কলমে ঘন কালি এবং ধাতব কালি ব্যবহার করা যায় যা ঝর্ণা কলমে জমে গিয়ে আটকে যায় অথবা মরিচা ধরে যায়।
আরও কত বিবর্তনেরর পর আজ কি রকম আছি তা সবাই দেখছে।
।।
আমার অবস্থানঃ-আমার অবস্থান হৃদয়ের উপরে শার্ট/গেঞ্জি/ফতুয়ার পকেটে।তাছাড়াও প্রতিটি ঘরে আমাকে সুন্দর ভাবে সাজানো তো হয়েই থাকে।
।।
আমির অবদানঃ-মানুষ আজ নিজেদের সভ্য বলে দাবি করে।কিন্তু মানুষের সভ্যতার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার।
।।
আমার আনন্দঃ-আমি জ্ঞান,বিজ্ঞান,সাহিত্যসহ সকল কিছুকে ধরে রেখে ভবিয্যতের জন্য এক নতুন দিগন্তে তৈরি করতে সাহায্য করি।এর চেয়ে আর বড় কি হতে পারে।

আমার কষ্টঃ-যখন এক ছোট্ট সাইন করতে টাকার জন্য বসে থাকে কিন্তু আমাকে ব্যবহার করে না তখন মনে হয় আমিই কি মানুষের সভ্যতাকে নষ্ট করছি।



Comment


Recent Post