ইসলামে নারীদের মযাদা

Ruksana akhter 3 weeks ago Views:17

মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত


মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত


♦মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত- এই কথা সঠিক কিনা এবং কোরআন-হাদিসের আলোকে মাতা-পিতার মর্যাদা-১ম পর্ব[সবগুলো]

الجنَّةُ تحتَ أقدامِ الأمَّهاتِ

‘‘মায়ের পায়ের নিচে (সন্তানের) বেহেশত’’ উক্ত বাক্যে হাদীসটি কি সহীহ? বা উক্ত শব্দে হাদিসটি সহীহ কি না? যদি উক্ত হাদীস সহীহ না হয়, তাহলে উক্ত মর্মে অন্য কোন হাদিস রয়েছে কি? এখন সে বিষয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করবো মূলত তিনটি ধাপে:

****১ম ধাপ****

★১. উক্ত শব্দে হাদিসটি সহীহ না বরং এটি যয়ীফ ও মুনকার।নিম্মে হাদীসটি সনদসহ দেখুন:

الكامل في ضعفاء الرجال (8/ 64)

قَالَ الشَّيْخُ: وَهَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ بِهَذَا الإِسْنَادِ يرويه، عَن أَبِي المليح مُوسَى بْن مُحَمد، وأَبُو المليح لا بأس به.

حَدَّثَنَا عُمَر بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنا عباس بن الوليد الخلال، حَدَّثَنا مُوسَى بْنُ مُحَمد بْنِ عطاء، حَدَّثَنا أَبُو الْمُلَيْحِ عَنْ مَيْمُونَ بْنِ مَهْرَانَ، عنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَال: قَال رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجَنَّةُ تَحْتَ أَقْدَامِ الأمهات من شئن أدخلن، ومَنْ شئن أخرجن

অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,মায়ের পায়ের নিচে (সন্তানের) বেহেস্ত।যে চায়,সে যেন তাতে প্রবেশ করে আর না চাইলে যেন বের হয়ে যায়।

[আল কামেল লি ইবনে আদী-৮/৬৪]

★হাদিসের মান যাচাই★

*(ক.) ‘‘আল্লামা ইবনু আদী (রহ:) উক্ত হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেন-وَهَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ উক্ত হাদীসটি মুনকার তথা অস্বীকৃত।’’

[আল কামেল লি ইবনে আদী-৮/৬৪]

★হাদিসটি যয়ীফ হওয়ার কারণ হলো,উক্ত হাদীস এর একজন বর্ণনাকারী হলেন ‘‘মুসা ইবনে মুহাম্মদ’’ তিনি অধিক দুর্বল বর্ণনাকারী।

*(খ.) তার সম্পর্কে হাফেস যাহাবী (রহ:) বলেন-

ميزان الاعتدال (4/ 219)

8915 – موسى بن محمد بن عطاء الدمياطي البلقاوى المقدسي الواعظ، أبو طاهر، أحد التلفى.

روى عن مالك، وشريك، وأبي المليح.

وعنه الربيع بن محمد اللاذقى، وعثمان بن سعيد الدارمي، وبكر بن سهل الدمياطي، وأبو الاخوص العكبري.

كذبه أبو زرعة، وأبو حاتم.

وقال النسائي: ليس بثقة.

وقال الدارقطني وغيره: متروك.

.জারাহ ও তাদীলের বিখ্যাত ইমাম আবূ জুরাআ (রহ:) ও আবূ হাতেম (রহ:) তাকে মিথ্যুক বলেছেন এবং ইমাম নাসায়ী (রহ:) বলেন,তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম দারা কুতনীসহ অন্যান্য ইমামগণ বলেন, তিনি পরিত্যাক্ত।

[মিযানুল ইতেদাল-৪/২১৯, জীবনী নং-৮৯১৫]

*(গ.) ইমাম ইবনে হিব্বান ও ইবনে আদী (রহ.) তার সম্পর্কে আরো বলেন-

ميزان الاعتدال (4/ 219)

وقال ابن حبان: لا تحل الرواية عنه، كان يضع الحديث.

وقال ابن عدي: كان يسرق الحديث.

তার থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়,সে হাদীস জাল করে থাকে-ইবনে হিব্বান (রহ.)

তিনি হাদীসের মাঝে কারচুপি করেন। ইমাম ইবনু আদী (রহ.)।

[মিযানুল ইতেদাল-৪/২১৯]


*(ঘ.) আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন-

لسان الميزان ت أبي غدة (8/ 218)

ولما ذكره العقيلي في الضعفاء قال: يحدث عن الثقات بالبواطيل والموضوعات وقال: منكر الحديث. وأخرج حديثي ابن عباس وقال في كل منهما: منكر وأخرج له غيرهما.

وقال ابن يونس: روى عن مالك موضوعات وهو متروك الحديث.

وقال عبد الغني بن سعيد: ضعيف.

وقال أبو نعيم الأصبهاني: لا شيء.

وقال منصور بن إسماعيل بن أبي قرة: كان يضع الحديث على مالك والموقري.

লিসানুল মিযান,লি ইবনে হাজার-৮/২১৪, জীবনি নং-৮০৩০।

★ইমাম ইবনে হিব্বান আরো বলেন-


المجروحين لابن حبان (2/ 242)

919 – مُوسَى بن مُحَمَّد أَبُو طَاهِر الدمياطي الْبُلْقَاوِيُّ يروي عَن مَالك والموقري وذويهما روى عَنهُ أهل الشَّام والعراقيون أَصله من الْمَدِينَة سكن نَاحيَة من الشَّام يُقَال لَهَا بلقاء وَكَانَ يَدُور بِالشَّام وَيَضَع الحَدِيث على الثِّقَات ويروي مَا لَا أصل لَهُ عَن الْأَثْبَات لَا تحل الرِّوَايَة عَنْهُ وَلَا كِتَابَة حَدِيثه إِلَّا عَلَى سَبِيل الِاعْتِبَار للخواص


…..তিনি শাম দেশে ঘুরাফেরা করতেন এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামে জাল হাদীস রচনা করতেন। তিনি এমন হাদীস বর্ণনা করেন, যার প্রকৃত পক্ষে কোন ভিত্তি নেই। তার থেকে বর্ণনা করাও হালাল নয় এবং তার হাদীস লিখাও উচিৎ নয়…..।

[আল মাজরুহীন লি ইবনে হিব্বান-২/২৪২, জীবনি-৯১৯]


******২য় ধাপ******

* উক্ত হাদিসের সনদে দূর্বল বর্ণনাকারী থাকা সত্তেও আমরা কি উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করবো?

*তাহলে প্রশ্ন হলো উক্ত কথাটি কি ভুল তথা ভিত্তিহীন…?? আমি বলবো না!!!


*কেননা, কোরআন ও সহীহ হাদিসের মাঝে পিতা-মাতার ফযীলত এর ব্যাপারে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে।


*এখন এমন প্রমান পেশ করবো যা উক্ত যয়ীফ হাদীসটির কাছাকাছি অর্থ অন্য একটি সহীহ হাদীসের মাঝেও পাওয়া যায় তথা প্রকাশ করে। আর তা হলো:


★১. হযরত আনাস (রা:) হতে বর্ণিত রাসুল ﷺ ইরশাদ করেন “আল জান্নাতু তাহতা আকদামুল উম্মুহাত” মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।


******দলিল******

*১. এ সুত্রটি ইমাম কদ্বায়ী তার ” মুসনাদে শিহাব” গ্রন্থের প্রথম খন্ডের ১০২ পৃ. হাদিসঃ১১৯, মুসলিম আনসারী,আল-কুনী ওয়াল আসমা,৩/১০৯১পৃ. হাদিস: ১৯১২- দারুল ইবনে হাযম,বৈয়রুত।


★এ হাদিসটি এ মতন বা শব্দ পরিবর্তন হয়ে হযরত মুয়াবিয়া বিন জাহিমাতা আস্- সালামী (রা:) হতে বর্নিত রাসুল ﷺ এখানে “আকদাম” এর স্থানে “রিজলিহা” অর্থাৎ তাদের পা মূলত একই অর্থ বহন করে। হাদিসখানা দেখুন:


3104 – أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ الْوَرَّاقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ طَلْحَةَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جَاهِمَةَ السَّلَمِيِّ، أَنَّ جَاهِمَةَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَدْتُ أَنْ أَغْزُوَ وَقَدْ جِئْتُ أَسْتَشِيرُكَ، فَقَالَ: «هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ؟» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَالْزَمْهَا، فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلَيْهَا»


হযরত মুআবীয়া ইবনে জাহিমা সালামী (রা.) বলেন, আমার পিতা জাহিমা একদা রাসূল ﷺ এঁর খেদমতে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছে করেছি। তাই আঁপনার নিকট পরামর্শ করতে এসেছি। রাসূল ﷺ বললেন, তোমার মা (জীবিত) আছেন কি? তিনি বললেন,হ্যাঁ। রাসূল ﷺ বললেন


«فَالْزَمْهَا، فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلَيْهَا»


তার খেদমতে লেগে থাকো।কেননা জান্নাত তার দু’পায়ের নিচে।



★হাদিসের মান যাচাই★


*(ক.) অসংখ্য ইমামগণ হাদীসটিকে সহীহ তথা প্রমাণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।ইমাম হাকেম ও হাফেজ যাহাবী (রহ.) বলেন:

المستدرك على الصحيحين للحاكم (2/ 114)

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ ”

[التعليق – من تلخيص الذهبي] 2502 – صحيح


হাদিসটি সহীহ।যদিও সহীহ বুখারী ও মুসলিম এর মাঝে সংকলন করা হয় নি-ইমাম হাকেম।

হাদিসটি সহীহ-হাফেয যাহাবী। মুসতাদরাকে হাকেম-২/১১৪, হাদীস-২৫০২।


[আরেকটি কথা হল বুখারী ও মুসলিম শরীফে থাকবে না বলে সহিহ হবে না এমন তো হতে পারে না।আর ইমাম হাকেম ও ইমাম যাহাবীর পরিচয় নিশ্চয়ই কম বেশী সবারই জানা রয়েছে]


*(খ.) নাসায়ী,তাবারানী,হাদীসের সনদ হাসান,আর মুনযিরী (রহ:) স্বীকৃতি দিয়েছেন।


*(গ.) আহলে হাদিসদের গুরু নাসীর উদ্দীন আলবানীও উক্ত হাদীসটিকে সুনানে নাসাঈ এর তাহক্বীকে হাসান,সহিহ বলেছেন।

[সুত্রঃ সুনানে নাসাঈ,হাদিসঃ৩১০৪]


আহলে হাদীসদের গুরু শায়খ নাসীর উদ্দীন আলবানীও উক্ত হাদিসটিকে হাসান সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন,নিন্মে তা দেখুন:


إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل (5/ 21)

أما حديث معاوية , فيرويه ابن جريج , قال: أخبرنى محمد بن طلحة وهو ابن عبد الله بن عبد الرحمن عن أبيه طلحة عنه بلفظ: ” أن جاهمة جاء إلى النبى صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله أردت أن أغزو , وقد جئت أستشيرك؟ فقال: هل لك من أم؟ قال: نعم , قال: فالزمها , فإن الجنة تحت رجليها “.

أخرجه النسائى والحاكم (2/104 و4/151) وأحمد (3/429) وابن أبى شيبة أيضا فى ” مسنده ” (2/7/2) .

وقال الحاكم: ” صحيح الإسناد “.

ووافقه الذهبى.

قلت: كذا قالا , وطلحة بن عبد الله لم يوثقه غير ابن حبان , لكن روى عنه جماعة , فهو حسن الحديث إن شاء الله وفى ” التقريب “: ” مقبول “…….

ইরওয়াউল গালীল-৫/২১।


সুতরাং উক্ত হাদিস নিয়ে ফেৎনা সৃষ্টি করার কোনরুপ প্রয়োজন থাকতে পারে না।


[সবার নিকট অনুরোধ থাকলো সবগুলো পর্ব দেখবেন ইনশাআল্লাহ মনের সন্দেহ দূর হয়ে যাবে]


♦মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত- এই কথা সঠিক কিনা এবং কোরআন-হাদিসের আলোকে মাতা-পিতার মর্যাদা-২য় পর্ব


*****৩য় ধাপ******


★২. জাহেমাহ আস-সুলামী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর নিকটে এসেছিলাম জিহাদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরামর্শ করার জন্য। তিঁনি আমাকে বললেন,তোমার কি পিতা-মাতা আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ।তখন তিঁনি বললেন


الْزَمْهُمَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ أَرْجُلِهِمَا


‘তুমি তাদের নিকটে থাক।কেননা জান্নাত রয়েছে তাদের পায়ের নীচে’।

[ত্বাবারাণী কাবীর হা/২২০২; সহীহ আত-তারগীব হা/২০৮৫]


★★অন্য বর্ণনায় এসেছে,জাহেমাহ আস-সুলামী রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর ডান দিক থেকে ও বাম দিক থেকে দু’বার এসে বলেন,আমি আঁপনার সাথে জিহাদে যেতে চাই এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখেরাত কামনা করি। জবাবে রাসূল ﷺ বলেন, তোমার মা কি বেঁচে আছেন? তিনি বললেন হ্যাঁ। রাসূল ﷺ বললেন, ارْجِعْ فَبَرَّهَا ‘ফিরে যাও। তার সাথে সদাচরণ কর’। অবশেষে তৃতীয় বার সম্মুখ থেকে এসে একই আবেদন করেন। তখন রাসূল ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করেন তোমার মা কি জীবিত আছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন রাসূল ﷺ বললেন,

وَيْحَكَ الْزَمْ رِجْلَهَا فَثَمَّ الْجَنَّةُ

‘তোমার ধ্বংস হৌক! তার পায়ের কাছে থাক।সেখানেই জান্নাত’

[ইবনু মাজাহ হা/২৭৮১]


★৩. আবার অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন, তুমি তোমার মায়ের সেবা কর। فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلَيْهَا ‘কেননা জান্নাত তার দু’পায়ের নীচে’ [নাসাঈ হা/৩১০৪]


★আবার অন্য হাদিসে এসেছে “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।”

[জামে সগির : ৩৬৪৩]


★আবার এরকম বর্ননাও রয়েছে।রাসূলে খোদা ﷺ বলেছেনঃ বেহেশ্‌ত হচ্ছে মায়েদের পায়ের নিচে।

[কানযুল উম্মালঃ ৪৫৪৩৯, মুনতাখাবে মিযানুল হিকমাহঃ ৬১৪ ]


★৪. রাসূল ﷺ বলেছেন,“তার নাক ধূলায় মলিন হোক (৩ বার) সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন,হে আল্লাহর রসূল! সেই হতভাগ্য ব্যক্তিটি কে? রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন,সে হলো ঐ ব্যক্তি,যে তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল অথচ তাদের সেবা করে জান্নাত হাছিল করতে পারলো না”

[মুসলিম-৪/১৯৭৮,হা-২৫৫১]


অর্থাৎ তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করলে সে জান্নাতে যেত।সে জান্নাত পেয়েও জান্নাতে গেল না,সে বড় হতভাগ্য।


★★আবার মিশকাত শরীফেও উক্ত হাদিসখানা বর্নিত হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত।রাসূল ﷺ বলেন, তার নাক ধূলি ধূসরিত হৌক (৩ বার)। বলা হ’ল,তিনি কে হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে কিংবা একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল, অথচ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারলো না’।


[মিশকাত হা/৪৯১২ ‘সৎকাজ ও সদ্ব্যবহার’ অনুচ্ছেদ।]


★৫. অপর বর্ননায় এসেছে


قال الله – عليه الصلاة والسلام -: مَن أصْبحَ مُطيعًا لله في والِدَيه أصْبحَ له بابانِ مَفتوحانِ مِن الجنَّة، وإنْ أمسى فمِثْل ذلك، ومَن أصْبحَ عاصيًا لله في والِدَيه أصْبحَ له بابانِ مَفتوحانِ إلى النَّار، وإنْ أمْسى فمِثْل ذلك، وإنْ كان واحدًا فواحدٌ، قال رجل: وإنْ ظَلَماه؟ قال: وإنْ ظَلَماه، وإنْ ظَلَماه، وإنْ ظَلَماهما( رواه البيهقي في “شعب الإيمان” (১০/৩০৬) . تخريج الإحياء” (২/২১৬) . ورواه البخاري في “الأدب المفرد” (১৬)


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, পিতা-মাতার হকের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলার অনুগত হয়ে যে ব্যক্তি ভোরে ঘুম থেকে জেগে ওঠে, প্রভাতে তার জন্যে জান্নাতের দুটি দরজা খুলে যায়। আর যদি কেবল একজন বেঁচে থাকেন তখন তার জন্যে শুধু একটি দরজা খুলে দেয়া হয়।যে ব্যক্তি পিতা-মাতার হকের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয় তার জন্যে জাহান্নামের দুটি দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আর যদি কেবল একজন বেঁচে থাকেন তবে শুধু একটি দরজাই খুলে দেওয়া হয়। এক ব্যক্তি জানতে চাইল,যদি পিতা-মাতা তার প্রতি নিষ্ঠুর হয়, তবুও কি এরূপ হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন, যদিও পিতা-মাতা তার প্রতি নিষ্ঠুর হয়। যদিও পিতা-মাতা তার প্রতি নিষ্ঠুর হয়। যদিও পিতা-মাতা তার প্রতি নিষ্ঠুর হয়।


[বায়হাকি: শুয়াবুল ঈমান- ১০/৩০৬। বুখারী: আদাবুল মুফরাদ-১৬]


★৬. অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে:


عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّ رَجُلاً أَتَاهُ فَقَالَ : إِنَّ لِيَ امْرَأَةً وَإِنَّ أُمِّي تَأْمُرُنِي بِطَلاقِهَا ، قَالَ : أَبُو الدَّرْدَاءِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : الْوَالِدُ أَوْسَطُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ فَإِنْ شِئْتَ فَأَضِعْ ذَلِكَ الْبَابَ أَوْ احْفَظْهُ) ] وعزاه إلى أبي داود الطيالسي ، وأحمد ، وابن ماجه ، والحاكم وصححه ، ( ووافقه الذهبي ) . ا هـ .وقد رمز له السيوطي في الجامع الصغير بالصحة ؛ كما في الفيض ( ৬ / ৩৭১ ) .قال المناوي في فيض القدير ( ৬ / ৩৭১ ) : ” الوالد أوسط أبواب الجنة ” أي : طاعته ، وعدم عقوقه مؤدٍ إلى دخول الجنة من أوسط أبوابها ، ذكره العراقي .وقال البيضاوي : أي خير الأبواب وأعلاها ، والمعنى : أنَّ أحسن ما يتوصل به إلى دخول الجنة ، ويتوصل به إلى الوصول إليها مطاوعة الوالد ، ورعاية جنابه .وقال المباركفوري في تحفة الأحوذي ( ৬ / ২৫ ) : …وقال غيره : إنَّ للجنة أبواباً ، وأحسنها دخولاً أوسطها ، وإنَّ سبب دخول ذلك الباب الأوسط هو محافظةً على حقوق الوالدين ؛ فالمراد بالوالد : الجنس ، أو إذا كان حكم الوالد هذا فحكم الوالدة أقوى . اهـ .(

পিতা মাতা জান্নাতের মাঝের দরজা। যদি চাও,দরজাটি নষ্ট করে ফেলতে পারো, নতুবা তা রক্ষা করতে পারো।


[তিরমিযী, তুহফাতুল আহওয়াযী, ৬/২৫]


★৭. পিতা-মাতা আমাদের বেহেশত ও দোযখ:


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا حَقُّ الْوَالِدَيْنِ عَلَى وَلَدِهِمَا؟ قَالَ: هُمَا جَنَّتُكَ وَنَارُكَ(رواه ابن ماجه. [৪৯৪১


“হযরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আরয করলো, হে আল্লাহর রাসূল! সন্তানের ওপর পিতা-মাতার হক কি আছে? তিঁনি বললেন, তারা তোমার বেহেশত ও দোযখ” [ইবনে মাজাহ-৪৯৪১]


হাদিসটির মূল কথা হচ্ছে, সন্তান পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করলে বেহেশতের অধিকারী হবে এবং পিতা-মাতার অধিকার সমূহকে পদদলিত করলে, পিতা-মাতার চেয়ে অন্য কোন মানুষকে, আত্নীয়-স্বজনকে অগ্রাধিকার দিলে দোযখের অধিকারী হবে।


♦মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত- এই কথা সঠিক কিনা এবং কোরআন-হাদিসের আলোকে মাতা-পিতার মর্যাদা-৩য় পর্ব


★৮. আল কুরআনের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার, প্রখ্যাত সাহাবী অবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আল কুরআনে এমন তিনটি আয়াত আছে যেখানে তিনটি জিনিস তিনটি জিনিসের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। একটি ছাড়া অন্যটি অগ্রহণযোগ্য। সে তিনটি আয়াত হলঃ


*(ক.) আল্লাহ তাআলা বলেন,

হে মুমিনগণ,তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর তার রাসূলের।এবং (তাদের বিরুদ্ধাচারণ করে) নিজেদের আমল বিনষ্ট কর না।

[সূরা মুহাম্মাদ(দরুদ) আয়াত নং ৩৩]


✌কেউ যদি আল্লাহর আনুগত্য করে কিন্তু রাসূলের আনুগত্য না করে তাহলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।


*(খ.) আল্লাহ তায়ালা বলেন,

এবং তোমরা সালাত (নামায) আদায় কর এবং যাকাত দাও।

[সূরা বাক্বারা,আয়াত নং ৪৩]


✌কেউ যদি নামায পড়ে কিন্তু যাকাত দিতে রাজী নয় তাহলে তাও আল্লাহর দরবারে গ্রহণীয় নয়।

*(গ.) আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

وَوَصَّيْنَا الْأِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْناً عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ

“আর আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে (সন্তানকে) কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট।”

[সূরা লোকমান,আয়াত নং ১৪]

✌কেউ যদি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে কিন্তু পিতা-মাতার কৃতজ্ঞতা আদায় না করে তবে তা আল্লাহর নিকট প্রত্যাখ্যাত।সে কারণেই মহাগ্রন্থ আল কুরআনে একাধিকবার আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশের সাথে সাথে পিতা-মাতার আনুগত্য করার প্রতি নির্দেশ এসেছে। ধ্বনীত হয়েছে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করার প্রতি কঠিন হুশিয়ারী। তা যে কোন কারণেই হোক না কেন। ইরশাদ হচ্ছে:

وَاعْبُدُواْ اللّهَ وَلاَ تُشْرِكُواْ بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالاً فَخُورًا

‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক কর না আর পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর এবং নিকটাত্মীয়দের সাথে, এতীম,মিসকীন,প্রতিবেশি,অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীদের প্রতিও। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা অহংকার ও দাম্ভিক ব্যক্তিদের পছন্দ করেন না।

[সূরা নিসা,আয়াত নং ৩৬]

★৯. আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেনঃ ‘আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জন্য পীড়াপীড়ি করে, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই,তবে তাদের আনুগত্য করো না। আঁমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আঁমি তোমাদেরকে বলে দিব যা কিছু তোমরা করতে’।

[সূরা আনকাবূত,আয়াত নং ৮]


★১০. আল্লাহ বলেন, ‘আঁমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্ট সহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার দুধ ছাড়াতে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থ্যের বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌঁছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে সামর্থ্য দাও, যাতে আমি তোমার নে’আমতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পসন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমারই অভিমুখী হ’লাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম’।

[সূরা আহক্বাফ,আয়াত নং ১৫]


★১১. অন্যত্র মহান আল্লাহ এরশাদ করেন,‘আঁপনার রব নির্দেশ দিলেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না, আর তাদের সাথে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বল। অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বল, হে পালনকর্তা! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মনে যা আছে তা ভাল করেই জানেন। যদি তোমরা সৎ হও, তিনি মনোযোগীদের প্রতি ক্ষমাশীল’।

[সূরা বনী ইসরাঈল,আয়াত নং ২৩- ২৫]


★১২. ‘হে রাসুল! বলে দিন! তোমরা যদি কিছু আর্থিকভাবে দান করে থাক তা তোমাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয় স্বজনকে করো”

[সূরা বাকারা,আয়াত নং ২১৫]


★১৩. অন্যত্র তিঁনি বলেন,‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর’

[সূরা নাহল,আয়াত নং ৭৮]


★১৪. আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় কালামে বলেছেন,‘পিতা-মাতা যদি তোমাকে আঁমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই। তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আঁমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আঁমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আঁমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে অবগত করব’

[সূরা লোকমান,আয়াত নং ১৫]

উল্লেখিত আয়াতগুলোতে স্পষ্টভাবে পিতা-মাতার মর্যাদা এবং তাদের প্রতি সন্তানদের অধিকারের প্রমান বহন করছে।

♦মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত- এই কথা সঠিক কিনা এবং কোরআন-হাদিসের আলোকে মাতা-পিতার মর্যাদা-৪র্থ পর্ব

★১৫. হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম, জান্নাতে প্রবেশ করেছি। সেখানে কোন পাঠকের পড়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তারা (ফেরেশতাগণ) বললেন, ইনি হারেছা ইবনে নোমান। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,এমনই হয় সেবা ও সদাচরণের প্রতিদান, এমনই হয় সেবা ও সদাচারের বিনিময়। তিনি ছিলেন তার মায়ের প্রতি সর্বাধিক সদ্ব্যবহারকারী।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” مَا مِنْ وَلَدٍ بَارٍّ يَنْظُرُ إِلَى وَالِدَتِهِ نَظْرَةَ رَحْمَةٍ إِلَّا كَانَ لَهُ بِكُلِّ نَظْرَةٍ حَجَّةٌ مَبْرُورَةٌ “، قَالُوا: وَإِنْ نَظَرَ إِلَيْهَا كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ؟ قَالَ: ” نَعَمْ، اللهُ أَكْبَرُ وَأَطْيَبُ “رواه أبو بكر الإسماعيلي في “معجم أسامي الشيوخ” (৮) – ومن طريقه البيهقي في “شعب الإيمان” (১০/২৬৫) .

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা:) বর্ণিত, হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন,যে নেক্কার ছেলে নিজ মাতা-পিতার প্রতি রহমত ও আন্তরিকতার দৃষ্টিতে একবার তাকাবে, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক দৃষ্টির বিনিময়ে তার জন্য একটি মাবরুর হজ্বের (মকবুল হজ্বের) ছওয়াব লিপিবদ্ধ করবেন। সাহাবাগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি উক্ত ব্যক্তি দৈনন্দিন একশত বার তাকায়, তাহলে? তিঁনি উত্তরে বলেন, হ্যাঁ! আল্লাহ তায়ালা সুমহান ও বড় করুণাময়।

[বায়হাক্বী: শুয়াবুল ঈমান ১০/২৬৫]


★১৭. একদিন হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসুল ﷺ এঁর নিকট এসে কাঁদছেন। রাসুল ﷺ জিজ্ঞেস

করলেন,হে আবু হুরায়রা তুমি কেন কাঁদছ? আবু হুরায়রা (রা:) বললেন, আমার মা আমাকে মেরেছেন।

রাসুল ﷺ বললেন,কেন তুমি কি কোন বেয়াদবী করেছ? আবু হুরায়রা (রা:) বললেন, না হুজুর কোন বেয়াদবী করিনি। আঁপনার দরবার হতে বাড়ি যেতে আমার রাত হয়েছিল বিধায় আমার মা আমাকে দেরির কারণ জিজ্ঞেস করায় আমি আঁপনার কথা বললাম। আর আপনার কথা শুনে মা রেগে আমাকে মারধর করল আর বলল, হয়ত আমার বাড়ি ছাড়বি আর না হয় মুহাম্মদ ﷺ এঁর দরবার ছাড়বি।

আমি বললাম,ও আমার মা। তুমি বয়স্ক মানুষ। তোমার গায়ে যত শক্তি আছে তত শক্তি দিয়ে মারতে থাকো। মারতে মারতে আমাকে বাড়ি থেকে করে দাও। তবুও আমি আমার রাসুলকে ছাড়তে পারবো না।

তখন রাসূল ﷺ বলেছেন,তোমার মা তোমাকে বের করে দিয়েছেন আর এজন্য আঁমার কাছে নালিশ করতে এসেছ? হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন,হে রাসূল ﷺ আমি আমার মায়ের জন্য এখানে নালিশ করতে আসি নাই। রাসুল ﷺ বললেন, তাহলে কেন এসেছ? আবু হুরায়রা (রা:) বললেন, আমি জানি আঁপনি আল্লাহর নবী।আঁপনি যদি হাত উঠিয়ে আমার মায়ের জন্য দোয়া করতেন,যাতে আমার মাকে যেন আল্লাহ হেদায়েত করেন।আর তখনই সাথে সাথে রাসুল ﷺ হাত উঠিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন,

হে আল্লাহ! আঁমি দোয়া করি আঁপনি আবু হোরায়রার আম্মাকে হেদায়েত দান করুন।”

রাসুল ﷺ দোয়া করলেন আর আবু হোরায়রা বাড়ির দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন। পিছন থেকে কয়েকজন লোক আবু হোরায়রার জামা টেনে ধরল এবং বললো, হে আবু হোরায়রা! তুমি দৌড়াচ্ছ কেন? তখন আবু হোরায়রা বললেন, ওহে সাহাবীগণ তোমরা আমার জামা ছেড়ে দাও। আমাকে দৌড়াতে দাও। আমি দৌড়াইয়া বাড়িতে গিয়ে দেখতে চাই আমি আগে পৌঁছলাম নাকি আমার    ৃ 



Comment


Recent Post